
পাবনার বেড়া উপজেলায় অবৈধ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারী’ জাল তৈরি ও বিক্রির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর অবশেষে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে একটি কারখানার সন্ধান পেয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৩০০ পিস জাল ও জাল তৈরির মেশিনসহ বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
গত ১১ আগস্ট ‘ বার্তা সংস্থা ‘পিপ’ পরিবেশিত সংবাদ পাবনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে “বেড়ায় অবাধে তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটিতে বনগ্রামের অবৈধ কারখানা ও স্থানীয় নাজিম বাজারে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জাল কেনাবেচার চিত্র উঠে আসে। সংবাদটি নজরে আসার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বেড়া পৌরসভার বনগ্রাম এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরেশ মায়িশা খান। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকাররম হোসেন, বেড়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বনগ্রাম এলাকার ঈশ্বর নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অবৈধভাবে চায়না দুয়ারী জাল তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে কারখানাটি থেকে ৩০০ পিস চায়না দুয়ারী জাল এবং জালের রিং তৈরির দুটি মেশিনসহ নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
পরবর্তীতে জব্দকৃত নিষিদ্ধ জালগুলো বেড়া উপজেলা চত্বরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। তবে জাল তৈরির মেশিনসহ ধাতব মালামালগুলো মৎস্য বিভাগে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে নিলামে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানের সময় বাড়ির মালিক ও কারখানার কর্ণধার ঈশ্বরকে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরেশ মায়িশা খান এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকাররম হোসেন জানান, মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
