
মুকুল হোসেন, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হামিদ (৮০) মানসিকভাবে অসুস্থ ও ভারসাম্যহীন অবস্থায় তার সম্পত্তি দখল, জোরপূর্বক দলিল তৈরি, অপহরণ এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার নিজ কন্যাদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের কালীবাড়ীস্থ নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীর পুত্র টি.এম. নুর এজাজ।
লিখিত বক্তব্যে নুর এজাজ জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কালীবাড়ী মোড় থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজেদের ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, তারা একটি বেসরকারি রিহ্যাব সেন্টারের ভাড়া করা লোক, যাদের পেছনে ছিলেন তার আপন বোনেরা ও তাদের সহযোগী সোহাগ নামের এক ব্যক্তি। তাকে জোরপূর্বক ‘রেনেসাঁ রিহ্যাব সেন্টারে’ আটকে রেখে মাদকাসক্ত হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই রিহ্যাব সেন্টারে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একই সময়ে স্ত্রী মেহেজাবিন মৌ ও দুই শিশুকন্যাকে কৌশলে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে বড় বোনের বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে এক আত্মীয়ের চল্লিশা অনুষ্ঠানে সুযোগ পেয়ে তারা পালিয়ে আসেন এবং তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। প্রায় দুই মাস অবৈধ আটকের পর ১৫ মে আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে তিনি মুক্তি পান।
নুর এজাজ অভিযোগ করেন, এই পরিকল্পিত ঘটনার সুযোগে তার পিতার প্রায় ৬ বিঘা জমি ভয়ভীতি দেখিয়ে ও কৌশলে দলিল করে আত্মসাৎ করেছেন তার বোনেরা। জমির দলিল নম্বর—১২২৮ (২৩.০৩.২০২৫), ১৯৮০ (২৩.০৩.২০২৫) ও ১৯৮১ (২৪.০৩.২০২৫)। জমিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। তার দাবি, এসব দলিল জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং এর ভিডিও প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।
থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযুক্তদের নিয়োগকৃত উকিলসহ কয়েকজন তাকে বাধা দেন এবং মামলা কোর্টে করার পরামর্শ দেন। কিন্তু কোর্টে গিয়েও একই উকিল আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার প্রস্তাব দেন। দুই দফা নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা হাজির হননি, বরং প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নুর এজাজ আরও জানান, মূলহোতা সোহাগ ও তার পরিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং র্যাব দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ সংক্রান্ত মেসেঞ্জার বার্তা ও অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে।
তিনি অপহরণ, অবৈধ আটক, নির্যাতন এবং জমি আত্মসাতের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি তার বাবার সম্পত্তি রক্ষায় অবৈধ দলিল বাতিলের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরটিভি ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
