
কৌশিক হোসেন
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় নকল দুধ তৈরির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক বিশেষ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে বিশ মণ বিষাক্ত দুধ, যা তাৎক্ষণিকভাবে জনসম্মুখে নষ্ট করা হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে। এর মধ্যে একজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসানের তত্ত্বাবধানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সঙ্গে ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফি নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম উপাদান, রাসায়নিক, সয়াবিন তেল, ডিটারজেন্ট এবং ফ্যাট রিমুভার মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করে তা স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছিলi
অভিযানকালে ড্রামে থাকা বিশ মণ দুধ রাস্তায় ঢেলে নষ্ট করা হয়। এ সময় অসংখ্য মানুষ জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এতদিন আমরা যে দুধ খেয়েছি সেটা যদি এই বিষ হয়, তাহলে আমাদের জীবন তো ধ্বংস হয়ে গেছে। এদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কেউ ছিনিমিনি খেললে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোপেশ চন্দ্র সরকার জানান, “নকল দুধে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলো শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।”
এই অভিযান পাবনা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই ভেজাল দুধ কারা কিনত এবং কীভাবে বাজারে সরবরাহ হতো? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের প্রয়োজন।
জনস্বার্থে এমন অভিযান আরও বাড়ানো এবং ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
