
রিপোর্টার, মোঃ রিফায়েত ইসতিয়াক হৃদয়
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলিপাড়া মধ্যপাড়ায় প্রায় ৩-৪ বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে দেলোয়ার হোসেন ও নাসিমুল ইসলামের মধ্যে। বৈধ কাগজপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্রয়সূত্রে জমিটির প্রকৃত মালিক নাসিমুল ইসলাম। তবে দেলোয়ার হোসেন বাটোয়ারা সূত্রে মালিকানা দাবি করে আসছেন, যার পক্ষে কোনো প্রমাণ বা বৈধ কাগজপত্র নেই।
এক বছর আগে দেলোয়ার হোসেন জোরপূর্বক ওই জমি দখল করে একটি টিনের ঘর ও ছোট্ট একটি টঙের দোকান নির্মাণ করেন। এ সময় নাসিমুল ইসলাম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রভাব খাটিয়ে তা ব্যর্থ করে দেন দেলোয়ার। পরবর্তীতে নাসিমুল ইসলাম আইনের আশ্রয় নিলেও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে একাধিকবার সমাধানের জন্য ডাকা হলেও দেলোয়ার হাজির হননি বলে জানান মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উজ্জ্বল।
এ ঘটনার জের ধরে চলতি বছরের আগস্ট মাসে দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, নাসিমুল ইসলাম ও তার লোকজন তার বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। তিনি এ অভিযোগ পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পে দাখিল করেন। তবে তদন্তে পুলিশ ঘটনাটি বানোয়াট বলে প্রমাণ পায় এবং কোনো ধরনের হামলা বা লুটপাটের প্রমাণ মেলেনি।
এরপর দুই দিন না যেতেই দেলোয়ারের বাড়িতে নতুন নাটকীয় ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, খাটের পাশে খড়ের মাঝে আগুন লাগিয়ে চিৎকার দিয়ে তিনি দাবি করেন নাসিমুল ইসলাম তাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুন ছিল সীমিত স্থানে এবং বাইরে থেকে এসে তা লাগানোর মতো পরিস্থিতি বা প্রমাণ কিছুই মেলেনি। ফলে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন—তিনি কিভাবে নিশ্চিত হয়ে নাসিমুল ইসলামকে অভিযুক্ত করলেন?
ভুক্তভোগী নাসিমুল ইসলামের অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেন বারবার পরিকল্পিতভাবে তাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছেন, অথচ সুষ্ঠু সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এতে তিনি চরম অনিরাপত্তায় ভুগছেন এবং আশঙ্কা করছেন অন্যায়ের কাছে তার ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত বৈধ জমি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
নাসিমুল ইসলামের একটাই দাবি—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দ্রুত সঠিক তদন্ত করে তাকে ন্যায়বিচার প্রদান করে।
