
পাবনা জেলার ১৯৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা’। জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রসারে আয়োজিত এ মেলায় থাকছে নানা আয়োজন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাবনা শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
‘হৃদয়ে পাবনা’র সভাপতি আর কে আকাশের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পাভেল মৃধা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, পাবনা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ মন্টু, পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন, শহীদ সরকারি বুলবুল কলেজের উপাধ্যক্ষ আখতার জামান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট পাবনার সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম খোকন, পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য রেহানুল ইসলাম বুলাল, বাংলাদেশ পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতি (বাপুস) পাবনা জেলা শাখার প্রভাষক সাইফুল ইসলাম শুভ এবং কোল্ড স্টোন আইসক্রিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল খালেক।
এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দা সোনিয়া খাতুন ও তামান্না তানজীন জান্নাতী।
আলোচনা পর্ব শেষে কেক কেটে পাবনা জেলার ১৯৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়। পরে উদ্বোধনী দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যাঞ্চল। অনুষ্ঠানে পাবনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুজ্জামান প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি কাব্য, মিজানুর রহমান মিঠুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবে পাবনার ইতিহাস, ঐতিহ্য, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি জেলার কৃতী ব্যক্তিদের সম্মাননা, পাবনাকে নিয়ে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক গান ও নৃত্য পরিবেশন, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ নানা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
‘হৃদয়ে পাবনা’র সভাপতি আর কে আকাশ বলেন, পাবনার ইতিহাস-ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জেলার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করাই এ উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার অংশগ্রহণে উৎসবটি পাবনাবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হবে।
মেলায় স্থানীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে বসেছে ৫৭টি স্টল। এসব স্টলে পাওয়া যাচ্ছে পোশাক, গহনা, প্রসাধনসামগ্রী, আচার, পিঠাপুলি, খাদ্যপণ্য, তাঁতশিল্প ও মৃৎশিল্পের পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্পজাত পণ্য। এর মধ্য দিয়ে উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজকদের তথ্যমতে, ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
পাবনার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসব জেলার সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।
