
চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসায়ীদের কথা বলার জায়গা। চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসায়ীদের একাডেমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে কাজের, গতিশীল ও মেধাসম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয়-এমন মানুষগুলো আসতেই পারে না। রাজনীতি, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি চেম্বারের উন্নয়নে বড় বাধা। কোন ক্রমেই এখানে রাজনীতিপ্রীতি থাকবে না, দলীয় প্রাধান্য থাকবে না। এখানে ব্যবসায়ীরাই কর্তৃত্ব করবে। ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। ব্যবসায়ীদের সেবা দিতে চাই। গতকাল শনিবার এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী (ময়ুর মার্কা) আব্দুল আওয়াল খান চৌধুরী জ্যোতি।
আর তিনদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। আগামী ১৫ জানুয়ারী এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ জনগণের সরব প্রচারনা না থঅকলেও ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। চেম্বারে চেম্বারে আমন্ত্রণ রক্ষার পদক্ষেপ। আর এই ফাঁকে পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন ভোটের প্রচারণা। এছাড়াও মোবাইল হোয়াটনঅ্যাপ তো আছেই। সবমিলিয়ে ভোটার-প্রার্থী ও প্রার্থী সমর্থক ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নিজেদের প্রতিনিধির বিজয় নিয়ে। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কাকে কাকে ভোট দিলে কাজ হবে ব্যবসায়ীদের চায়ের কাপে কাপে এমন মন্তব্য চলছে জোরেশোরেই। নিজেদের প্রত্যাশাপূরণ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা ভিতরে ভিতরে নিজ নিজ প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এবারে দুটি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে ব্যবসায়ী প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন। তবে এর বাইরেও স্বতন্ত্র সভাপতি প্রার্থী রয়েছেন। তিনি আব্দুল আওয়াল খান চৌধুরী জ্যোতি। সাহিত্য প্রেমিক মানুষ এবং কবিকুঞ্জ সংগঠনের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, পারিবারিকভাবে ১৯৬৬ সাল থেকে ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আছেন। জানা যায়, হেতেমখান জমিদারি স্টেট তাদেরই। তিনি এই স্টেটের মোতওয়ালীর দায়িত্বে আছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিরও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নির্বাচিত হলে আপনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কি পদক্ষেপ নিবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা আমার মাধ্যমে নীতিনির্ধারক ও সরকারের সাথে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাবেন। তার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্বাচিত হলে, ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তাদের জন্য চেম্বার অব কমার্সে ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তৈরী করা হবে। ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তাদের ব্যবসার অর্থনৈতিক উন্নয়নে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে সমন্বয় করে ট্রেনিং ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হবে। ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় জন্য সরকারী বিধি মোতাবেক ভ্যাট, আয়কর, পরিবেশ আইন, শ্রম আইন, কলকারখানা আইন, এছাড়াও প্রয়োজনীয় সকল দপ্তরের বিধি সমূহ অবগত করতে দক্ষ ট্রেইনারের ম্যাধ্যমে ট্রেনিং প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
আরো আছে, নির্বাচিত হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তাদের ইলেকট্রিক্যাল সেফটি, ফায়ার সেফটি সঠিক ধারনা প্রদানে যথাযথ কতৃপক্ষের মাধ্যমে বেসিক প্রশিক্ষনের উদ্যোগ গ্রহন করা। একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কমিউনিকেশনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষন প্রদানের উদ্যোগ গ্রহন করা।
আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কৃষি পন্য উৎপাদন। এছাড়াও কৃষি কাজে ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি উৎপাদন কারখানা প্রস্তুতিতে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা হবে। উৎপাদিত পন্য দ্রুত স্থানান্তর করতে সড়ক, রেল ও আকাশ পথের বিশেষ ব্যবস্থা করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহন করা। প্রয়োজনে রাজশাহী সিটি সহ প্রত্যন্ত অঞ্চল সমূহে কৃষি হাব গড়ে তোলা হবে।
বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও বয়লার এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সেমিনার ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। তিনি বিজয়ের জন্য দোয়া কামনা করেছেন। তিনিও আল্লাহর কাছে ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সুস্থতা কামনাসহ ব্যবসার উন্নতি প্রত্যাশা করেন তিনি।।।
