
পাবনার পুরাতন টেকনিক্যাল মোড় শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, যানজট আর নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে এ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। এ অবস্থার পরিবর্তন চাইতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
পাবনা শহরের পুরাতন টেকনিক্যাল মোড়। প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে। মালবাহী ট্রাক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান—সব মিলিয়ে যানবাহনের চাপ থাকে সারাদিন। কিন্তু বিপরীত বাস্তবতা হলো, নেই যথাযথ সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই অনিয়ম ও দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে সকাল ১০টায় মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয়রা। উদ্যোগে ছিলেন পদ্মা কলেজের অধ্যাপক আনিছুজ্জামান নাঈম। ব্যানার ফেস্টুনে লেখা “নিরাপদ সড়ক চাই”, “দুর্ঘটনা বন্ধ চাই”, “নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল চাই”।
বক্তব্যে আনিছুজ্জামান নাঈম বলেন,
“আমাদের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। ফুটপাত দখল, দ্রুতগতি আর ভারী যান চলাচলের কারণে প্রতিদিন মানুষ ঝুঁকিতে থাকে। আমরা চাই—এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
সড়কের অনেক জায়গা ভাঙাচোরা, কোথাও আবার ফুটপাত দখল করে দোকান। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি বাড়ছে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি জানান,
ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রিত চলাচল
স্কুল-কলেজ সময় হিসেব করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ
ফুটপাত দখলমুক্ত করা
সিগন্যাল ও জেব্রা ক্রসিং স্থাপন
নিয়মিত ট্রাফিক টহল
ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার
“এখানে প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের পরিবার নিয়ে রাস্তায় নামলেই ভয় কাজ করে। প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই এই সড়কটি নিরাপদ করতে পারে।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। রাস্তা পার হওয়ার সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এই ভয় নিয়েই প্রতিদিন যেতে হয় স্কুলে।
“আমরা যখন রাস্তা পার হই, তখনই ভয় লাগে। মোটরসাইকেল আর অটোরিকশা এত দ্রুত চলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা হতে পারে।”
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেন আয়োজকরা। এতে ছিলেন অধ্যক্ষ নওশের আলী মন্টু, প্রকৌশলী আব্দুল কাদের, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আলামীন মাসুমসহ অনেকে।
টেকনিক্যাল মোড় এলাকার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলো বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সাধারণ মানুষ। তাদের আশা এই মানববন্ধন সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।
