
মোঃ সোহেল রানা – রাজশাহী
রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী বাবর আলী সড়কে নিয়মবভিভূত অবৈধ ভাবে একটি তৃতীয় তলা বিল্ডিং নির্মান করেছেন মোঃ আবু কালাম সাহেব আলী নামের এক ব্যক্তি। এ নিয়ে দৈনিক স্থানীয়, জাতীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধীকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযুক্ত সাহেব আলী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকার মৃত মহিরুদ্দিনের ছেলে।
ইমারত নির্মানে সরকারী রাস্তার জায়গা দখল, নকশা অনুসরণ না করা, নিময় বহিভূত ভাবে বিল্ডিং নির্মানের অভিযোগ এনে গত ২১-০৯-২০২২ তারিখে প্রতিবেশী নাসিরুদ্দিন নামের এক ব্যাক্তি তার বিরুদ্ধে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
বিষয়টি আমলে নিয়ে সঠিক নিয়মে কাজ করার লক্ষ্যে আরডিএ কর্তৃপক্ষ সাহেব আলীকে একাধীকবার নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু তিনি বারবারই আরডিএ কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইমরাত নির্মান কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত আরডিএ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ৩০/০৫/২০২৩ তারিখে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের, ইমারত পরিদর্শক মোঃ মফিদুর রহমান বাদী হয়ে জেলা রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিঃ ১ ও আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৫০৯সি/২০২৩(বোয়ালিয়া)। ওই মামলায় বিবাদী সাহেব আলী বর্তমানে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত আছেন। তবে সে কিছুদিন না যেতেই পূণরায় বিল্ডিং নির্মান কাজ অব্যাহত রাখেন। এনিয়ে স্থানীয়রা আরডিএ কর্তৃপক্ষ এবং থানায় বিষয়টি অবগত করলে আরডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল তারেক এর হস্তক্ষেপে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং পূণরায় কাজ না করার জন্য শতর্ক করেন বিল্ডিং মালিকে।
এ ঘটনায় গত (১৪ আগস্ট ২০২৫) তারিখে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন আরডিএ কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার আসামী মোঃ আবু কালাম সাহেব আলী। মামলা চলমান অবস্থায় নির্মাণ কাজ করছেন। বিজ্ঞ আদালতের সদয় অবগতির জন্য প্রামান্য চিত্র সহ প্রতিবেদনটি দাখিল করেন কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু অজ্ঞাত কারনে অবৈধ বিল্ডিং রক্ষায় দৌঁড়ঝাঁপ করছেন আরডিএ’র ইমারত পরিদর্শক মফিদুল রহমান। এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক যুবক জানায়, সম্প্রতী তিনি সাহেব আলীর হয়ে স্থানীয়দের সাথে টাকা বিনিময়ে আপোষ মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইমারত পরিদর্শক মফিদুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় ভাবে আপোষ-মিমাংসা না করলে সাহেব আলী অর্থ খরচ করে আদালত থেকে মামলায় বেকসুর খালাস নিবেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলেছেন স্থানীয়দের। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মফিদুরের বিরুদ্ধে।
সাহেব আলীর বিল্ডিং-এর আপোষ- মিমাংসার জন্য স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে আরএডি’র ইমারত পরিদর্শক মফিদুর রহমান কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
ইমারত পরিদর্শক মফিদুর রহমান বিতর্কীত বিল্ডিং এর মামলার বাদী হয়েও আপোষ মিমাংসার জন্য স্থানীয়দের কাছে দৌঁড়ঝাঁপ করছেন, বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আরডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল তারেক জানান, আপোষ-মিমাংসার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আপোষ-মিমাংসার কোন ফাক-ফোকর নেই। কারন বিল্ডিং-এর অবৈধ অংশ ভেঙ্গে অপসারণ করার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তারপরও বিল্ডিংটিতে আসামী কাজ করায় গত (১৪ আগস্ট ২০২৫) তারিখে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এখন বিজ্ঞ আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে বলেও জানান তিনি।
