
বিশেষ প্রতিনিধি :
পাবনার মালিগাছা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভজেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে মালোয়েশিয়া প্রবাসী ফজর আলী শেখ (৪০) অভিযোগ করেছেন—একই গ্রামের দাওয়াত আলী প্রামানিকের ছেলে মো. হেলাল, তার ভাই লতিফ ও আকুব্বরের হুমকি ও চাপে দেড় লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ২০১৮ সালে হেলালের অনুরোধে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে ফজর আলী গ্রামের সুমন প্রামানিকের মাধ্যমে আব্দুস সামাদের ছেলে প্রবাসী তুষার সর্দারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পাঠান। একইভাবে হেলালসহ আরও কয়েকজন সাড়ে তিন লক্ষ টাকা করে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেলাল বিদেশে যেতে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি ফজরের কাছে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন এবং ফোনে ভয়ভীতি দেখান।
অভিযোগ রয়েছে, র্যাব-১২ সিপিসি-২ পাবনা ক্যাম্পের একজন কর্মকর্তা ফজরের স্ত্রীকে হুমকি দেন—ফজর দেশে ফিরলে বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হবে, না ফিরলে পরিবারের ক্ষতি করা হবে। পরে র্যাব অফিসে ডেকে ১৫ দিনের মধ্যে দেড় লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মানসিক চাপে পড়ে ফজরের স্ত্রী ও ভাই ২০২৪ সালের এপ্রিলের ৬ তারিখে র্যাব অফিসে গিয়ে হেলালকে ওই টাকা পরিশোধ করেন। তবে এরপরও পরিবারের ওপর আরও দুই লক্ষ টাকার জন্য চাপ অব্যাহত থাকে।
গত ১৭ জুলাই হেলাল ও তুষারের পরিবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুনতাজ আলীর কাছে ফজরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে ডেকে বক্তব্য শুনলেও প্রমাণ না পাওয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি জানান, তুষারের স্ত্রীও স্বীকার করেছেন যে হেলালের কাছে কোনো লিখিত প্রমাণ নেই। ফজরের স্ত্রীর কাছে র্যাব অফিসে তৈরি একটি কাগজ ছিল, যেখানে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মধ্যে দেড় লক্ষ টাকা প্রথম কিস্তি হিসেবে উল্লেখ ছিল।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনাআলাপে ফজর আলী বলেন, “বিদেশে থাকা অবস্থায় হেলালের চাপে পড়ে আমার স্ত্রী ও ভাইয়ের কাছে তুষার যে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়েছিল সেটা আমাকে দিতে বাধ্য করায় আমার নিজ দেড় লক্ষ টাকা পাঠাই, র্যাবের এক কর্মকর্তা ভয়ভীতি দেখিয়ে এ টাকা আদায় করেন।”
অন্যদিকে হেলাল মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান তিনি ফজরের কাছে টাকা পান। আর করো কাছে না। অথচ তথ্য সূত্র বলে তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে তুষার ও সুমনের ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা দেন যার একটি সুমনের ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা ৩৫০/০১ হিসাব নং- ৫৫২৪৪। সেজন্য সুমন ও তুষারের বিরুদ্ধেও র্যাব অফিসে অভিযোগও করেছিলেন তিনি কিন্তু থানায় কোনো অভিযোগ দেননি।
আপনার কাছে কি কি প্রমান আছে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনও লিখিত প্রমান দেখাতে পারেননি। বারবার ফোনে দেখা করতে চাইলেও হেলাল দেখা করেননি।
প্রবাসী তুষার সরদার মুঠোফোনে জানান, দেশে ছুটিতে আসার সময় ইউনিয়ন পরিষদে বসে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং তিনি নোটিশে সইও করেছিলেন। তবে ব্যক্তিগত কারণে বিদেশে ফিরে যেতে হওয়ায় সমঝোতা সম্পন্ন হয়নি।
তার দাবি, তিনি কারো কাছ থেকে টাকা নেননি বা কাউকে বিদেশে পাঠাননি, যদিও এয়ারলাইনসের মাধ্যমে লোক আনার কথা আংশিকভাবে স্বীকার করেন।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, ৭ আগস্ট ২০২৩ সালে হেলাল উদ্দিনসহ চারজন র্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পে অভিযোগ করেন—সুমন ও তুষার সরদার মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ফজরের মাধ্যমে গেছে। প্রশ্ন উঠেছে—যখন র্যাবের নথিতেই উল্লেখ আছে টাকা সুমন ও তুষার নিয়েছে, তখন ফজরের কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা আদায় হলো কেন?
এ বিষয়ে র্যাব-১২ সিপিসি-২ পাবনা কোম্পানি কমান্ডার এএসপি এনামুল হক বলেন, “র্যাবের মূলনীতিতে টাকা-পয়সা বা জমি-সংক্রান্ত কোনো বিরোধের তদন্ত করার নিয়ম নেই। এটি সদর দপ্তরের নির্দেশনা, এবং ক্যাম্প প্রাঙ্গণে সাইনবোর্ডে তা উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।”
ফজর আলীর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি সহায়তা দাবি করেছে।
