
বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল—সর্বত্রই এখন তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ। সংগঠনের গঠনতন্ত্র সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিজেদের ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ ও ‘ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে দাবি করার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটুর বিরুদ্ধে। সাধারণ নেতা-কর্মীদের দাবি, এই ধরনের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত ও বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড সংগঠনের দীর্ঘদিনের শক্ত ভিত্তি এবং ঐক্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, কৃষক লীগের মূল সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র কারাবন্দী থাকায় কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নং সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ আশরাফ আলীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি যথারীতি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ, ১ম সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ নেতা-কর্মী সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কোনো সভা বা আলোচনা ছাড়াই ৯ নং সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক’ পরিচয় দিয়ে কৃষক লীগের প্যাডে তৈরি করে তাতে স্বাক্ষর করছেন।
সম্প্রতি ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই নেতার স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, আগামী ৩০ অক্টোবর ‘কৃষক বাঁচাও-দেশ বাঁচাও দিবস’ উপলক্ষে কৃষক সমাজের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। তবে এই বিজ্ঞপ্তি ও পদবী ব্যবহারকে 'অনিয়মতান্ত্রিক' ও 'বিভ্রান্তিকর' হিসেবে অভিহিত করেছেন সংগঠনের নেতাকমীরা। অভিযোগ উঠেছে, 'এপ্রিল ৭২' নামক একটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে তারা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ব্যতি রেখে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং জেলা-উপজেলার শীর্ষ নেতারা জানান, গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে জামায়াত-এনসিপি ও অন্যান্য গুপ্তদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে একটি গোষ্ঠী নিজেদের মনগড়া পদবি ব্যবহার করে সংগঠনকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ আশরাফ আলী এবং অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির বাইরে অন্য কোনো 'ভারপ্রাপ্ত' নেতৃত্বকে সাধারণ নেতা-কর্মীরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অবিলম্বে এই বিভ্রান্তিকর তৎপরতা বন্ধ করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠন পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
