বিএনপি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমান রেজা। এক বিশেষ বিবৃতিতে শহীদ জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার মহান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান রক্ষাকবচ।
বিবৃতিতে মোহাম্মদ ওসমান রেজা ১৯৭১ সালের সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমানের বীরোচিত ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ৭১-এর প্রারম্ভে ২৬শে মার্চ মেজর জিয়ার কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভয়মন্ত্র জুগিয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করে বিজয় ছিনিয়ে আনে।
স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে যখন অগণতান্ত্রিক শাসন ও একদলীয় দুঃশাসন চালু করা হয়েছিল, ঠিক তখন সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে আবির্ভূত হন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।
শহীদ জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতির মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে 'তলাবিহীন ঝুড়ি'র অপবাদ থেকে মুক্ত করে একটি খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। তাঁর সততা, স্বচ্ছতা ও দেশপ্রেম তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। আর এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণেই ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে কোনো ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে শারীরিকভাবে সরিয়ে দিলেও জনগণের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যায় না।
জাতীয় জীবনের সকল সংকট ও দেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও সততাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ ওসমান রেজা বলেন, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় এখন আমাদের সবাইকে ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।